নিজের চিকিৎসার টাকা নির্বাচনী কাজে ব্যয় করে নিঃস্ব ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আনিসুর রহমান ইউনুস ,

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৯নং শেখমাঠিয়া ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতিতে এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান ইউনুস সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার শারীরিক অসুস্থতা এবং দলের প্রতি চরম ত্যাগের কথা জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন, যা বর্তমানে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজের চিকিৎসার টাকা খরচ করেছেন নির্বাচনে

আনিসুর রহমান ইউনুস তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এমনকি তার ঘরে ক্যান্সারের রোগী থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের চিকিৎসার জন্য জমানো সমস্ত অর্থ দলীয় নির্বাচনী কাজে ব্যয় করেছেন। দল থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা না নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার এই নজির তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে আবেগ সৃষ্টি করেছে।

পরাজয়ের কারণ ও কর্মীদের প্রতি আহ্বান

নির্বাচনী ফলাফলের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে তিনি বলেন, দলীয় কর্মীদের একটি অংশের বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনি। তবে তিনি প্রতিহিংসার বদলে কর্মীদের স্নেহের মাধ্যমে আগামীর জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। তার দাবি, নাজিরপুরবাসী দলকে মূল্যায়ন করলেও পিরোজপুরবাসীর দিক থেকে সেই সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্র পর্যায়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের অবস্থানে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ডাক্তার বাবুলের ভোট নিয়ে এলাকায় তোলপাড়

   উক্ত ভিডিওতে ডাক্তার বাবুলকে দেখা যাচ্ছে

এদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচনের একটি বিশেষ দিক নিয়ে এলাকায় বেশ গুঞ্জন চলছে। স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ জনসম্মুখে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বললেও, ভোটের পর ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে অত্র এলাকার পরিচিত মুখ ডাক্তার বাবুল নিজেকে এর ব্যতিক্রম হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে যে, ডাক্তার বাবুল প্রকাশ্যে অন্য কথা বললেও গোপনে তিনি 'ধানের শীষ' প্রতীকেই ভোট দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় অনেক বিএনপি কর্মী 'বিপ্লব' হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বর্ণনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডাক্তার বাবুলের এই ভূমিকার কথা উল্লেখ করে স্থানীয়রা বলছেন, তার মতো ব্যক্তিদের সাহসিকতাই প্রতিকূল পরিবেশে দলকে টিকিয়ে রাখে।